ঢাকা, শনিবার   ১৬ অক্টোবর ২০২১ ||  আশ্বিন ৩০ ১৪২৮

কবি আলম সিদ্দিকীর উপন্যাস: সুখবিলাসী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৯, ৮ আগস্ট ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

একজন মানুষ যেভাবে তার জীবনকে গড়তে চায় কিংবা পরিবেশকে তৈরি করতে চায়; তেমনটা কিন্তু সব সময় হয় না। মানুষ ভাবে এক আর হয় আরেক। যেমন আমরা দেখতে পাই তরুণ কথাসাহিত্যিক ও ছড়ার কবি আলম সিদ্দিকীর প্রথম উপন্যাস সুখবিলাসী বইয়ে। উপন্যাসে দেখা যায়, ঘটনার ঘনঘটা, কাহিনির বর্ণচ্ছটা কিংবা প্রেম-ভালোবাসা, জীবন বাস্তবতা এবং ঘুণে ধরা সমাজের পরতে পরতে কাহিনির বাস্তব চিত্রায়ণ।

প্রতিটি মানুষ তার জীবনের আশেপাশে ঘটে যাওয়া কাহিনি থেকে কিংবা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে উপন্যাসের প্লট খুঁজে নিতে পারেন। কিন্তু বর্ণনার গুণে তা সার্থক হয়ে ওঠে। তেমনটিই মনে হয়েছে সুখবিলাসী উপন্যাস পড়তে গিয়ে। মনে হয়েছে, এ যেন লেখকের নিজের জীবনের কাহিনি। কখনো মনে হয়, তার আশপাশে ঘটে যাওয়া বাস্তবচিত্রই তিনি তুলে ধরেছেন উপন্যাসে। একজন তরুণ লেখক হিসেবে কথাসাহিত্যের এই পথে দারুণভাবে চিত্রায়িত করেছেন কাহিনিবিন্যাস।

উপন্যাসে দেখতে পাই, নাহিম নামে এক যুবক বাংলাদেশ থেকে বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য পড়তে যায়। তাও আবার আমেরিকার নিউইয়র্কে। সেখানে গিয়ে বাঙালি এক পরিবারের সাথে থাকে। যদিও তা ভাড়ার বিনিময়ে। তারপরও তার এক কঠিন রোগ এবং খারাপ সিচুয়েশনের মধ্যে পড়তে হয়।

নাহিম পড়াশোনা করতে গিয়ে ঘনিষ্ঠতা হয় ফিয়োনা নামে আমেরিকান এক বাংলাদেশি মেয়ের সাথে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় তারা গল্প-আড্ডায় সময় কাটায়। ফিয়োনা তাকে পছন্দ করে। নাহিমও। কিন্তু বলতে পারে না। একসময় বলেও তাদের ভালোবাসার কথা।

নাহিমের জীবনে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আমেরিকায় থাকা তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। অ্যাটর্নি, মানে আইনজীবী পরামর্শ দেন, আমেরিকান কোনো নারীকে বিয়ে করলে সেও আমেরিকায় থাকতে পারবে। এ কথা শোনার পর ফিয়োনা ও তার পরিবার বিষয়টা মেনে নেয়। তাদের বিয়ের পর নাহিম বাংলাদেশে ফিরে যেতে চায়। দেশে ফিরে ওরা দুজন সুখের সংসার শুরু করে। বাংলাদেশ গিয়ে ঢাকায় তারা দুজনই একটি স্কুলে চাকরি নেয়।

হঠাৎ একদিন তাদের সাজানো সুখের সংসার তছনছ হয়ে যায়। ফিয়োনাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। একদিন পর তার লাশ পাওয়া যায়। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনি। শেষ পর্যন্ত নাহিমের জীবনে কী ঘটে? খুবই সহজ-সরল একটি রোমান্টিক কাহিনি। এক দম্পতির আনন্দ-বেদনার জীবনকাব্য, সুখবিলাসী কাহিনি ফুটে উঠেছে দারুণভাবে।

তবে কিছু জায়গায় খটকা লাগে পাঠকের মনে। লেখক উপন্যাসটিতে প্রচুর প্রবাদ বাক্য, বাগধারা এমনকি কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন, যা হয়তো সাহিত্যে প্রয়োগ তেমন হয় না। বিষয়টি কিছু সময় প্রাসঙ্গিক না হওয়ায় তা সাহিত্যমানে বাধা সৃষ্টি করেছে। একই সাথে তিনি কিছু বাক্য ছন্দে ছন্দে বলার চেষ্টা করছেন। এটি যদিও কখনো কখনো ভালো লাগার মতো বিষয় ছিল। তবে সাহিত্যে এসব বর্ণনা যত এড়ানো যায় ততই ভালো। প্রাসঙ্গিক বিষয়কে ঠিক রেখে কাহিনির এগিয়ে চলাকে অবশ্যই গুরুত্ব দেয় পাঠক।

সুখবিলাসী উপন্যাসের শেষদিকে এসে কিছু প্রশ্ন পাঠকের মনে নাড়া দেবে। যেমন গল্পের নায়িকা ফিয়োনা যে লাশ হয়ে গেল, এর পেছনে আরও কাহিনির জাল বিছানো দরকার ছিল। অপরদিকে একে রহস্য উপন্যাস বলা হলেও রহস্যের ঘনঘটা কিংবা রহস্যময়তা তৈরিতে আরও দক্ষতার পরিচয় দেওয়া দরকার ছিল লেখকের।

তারপরও বলতে হয়, সাবলীল ভাষা ও বর্ণনার গতির কারণে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই উপন্যাসটিতে। যা লেখককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস। লেখকের প্রথম উপন্যাস হিসেবে বইটি প্রশংসার যোগ্য।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়