ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৯

কারো কাছে আপনার গোপন ছবি থাকলে কী করণীয়

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২  

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

প্রশ্ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনে এক ক্লাসমেটের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল; আমি তওবা করেছি এবং সে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। তার কাছে আমার কিছু ছবি রয়ে গেছে। তার কিছু ছবিও আমার কাছে আছে। আমি কি সে ছবিগুলো তার থেকে ফেরত চাইব এবং তার ছবিগুলো তাকে ফেরত দিব। কারণ এগুলো রাখা তো হারাম। নাকি আমি চুপ থাকব; যাতে করে দ্বিতীয়বার তার সাথে কথা বলা এড়িয়ে চলতে পারি।

উত্তর: কোন নারীর জন্য বেগানা পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া নাজায়েয। কারণ এ সম্পর্ক গড়ার মধ্যে অনেক হারাম বিষয় সম্পৃক্ত। যেমন- দেখা-সাক্ষাৎ, কথা বা কোমল কণ্ঠ শুনে মজা পাওয়া, তার কাছে মন পড়ে থাকা। আর এর বাইরে আরো যা কিছু ঘটতে পারে, সেগুলো আরো বেশি জঘন্য ও মারাত্মক। এ ধরনের সম্পর্ক ইসলামে নিষিদ্ধ নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে তৈরি হয়। যে মেলামেশা থেকে নেককার ব্যক্তিগণ উপর্যুপরি নিষেধ করে আসছেন এবং এর ভয়াবহতা বর্ণনা করে যাচ্ছেন।

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা বেগানা নারীর সঙ্গে নিভৃতে অবস্থান করা, মুসাফাহা করা ও দৃষ্টিপাত করা হারাম করেছেন (কেবলমাত্র বিয়ের পাত্রী দেখা ও সাক্ষ্যদানের মত প্রয়োজন ছাড়া)। সাজগোজ করে বেপর্দা হয়ে বের হওয়া নারীর উপর হারাম করেছেন। গাইরে মাহরাম পুরুষদের সামনে সতর খোলা, তাদের মাঝে সুগন্ধি মেখে বের হওয়া ও তাদের সঙ্গে কোমল সুরে কথা বলা হারাম করেছেন। এসব কর্ম হারাম হওয়া কোরআন-সুন্নাহ্‌র দলিলের ভিত্তিতে সুবিদিত। এ বিধানগুলোর আওতা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া হয়নি। এমনকি কেউ বিয়ের সংকল্প করলে তাকেও নয়; বিয়ের প্রস্তাবকারী পাত্রকেও নয়। কেননা বিয়ের আকদ (চুক্তি) হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ের প্রস্তাবকারী ছেলেও বেগানা পুরুষ।

ইমাম বুখারী (৩০০৬) ও ইমাম মুসলিম (১৩৪১) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন: “অবশ্যই কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত হবে না।”

তিনি আরও বলেন: “সাবধান! কোন পুরুষ কোন নারীর সঙ্গে নিভৃতে একত্রিত হবে না; যদি হয় সেখানে শয়তানই থাকে তৃতীয় ব্যক্তি।” [সুনানে তিরমিযি (২১৬৫); শাইখ আলবানী ‘সহিহুত তিরমিযি’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]

আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আপনাকে তওবা করার তাওফিক দিয়েছেন এবং এ পাপ থেকে আপনাকে দূরে সরিয়ে এনেছেন।

আর যে ছবিগুলো আপনার কাছে আছে- যদি আপনার প্রবল ধারণ হয় যে, সে ছেলে আপনার সঙ্গে কোন বাহানা করবে না; কালক্ষেপণ করবে না; যাতে আরেকটু সময় সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে পারে তাহলে আপনি তার কাছে ছবিগুলো চাইতে পারেন এবং তার ছবিগুলো তাকে দিয়ে দিতে পারেন।

আর যদি আপনি আশঙ্কা করেন যে, আপনার এ চাওয়াটাকে সে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে আপনাকে হুমকি দিবে, আপনার সঙ্গে টালবাহানা করবে কিংবা আপনার প্রবল ধারণা হয় যে, সে ছবিগুলো দিবে না তাহলে তার কাছে ছবিগুলো চাওয়ার দরকার নেই। তার যে সব ছবি আপনার কাছে আছে সেগুলো আপনি নষ্ট করে ফেলুন। কারণ যা অবশিষ্ট রাখলে হারামের কথা স্মরণ হবে কিংবা যা আপনাকে হারামের দিকে ডাকবে তা রাখা নাজায়েয।

শয়তানের চক্রান্ত ও নানা রকম উপসর্গ সম্পর্কে সাবধান থাকতে হবে। যাতে করে এই ছবিগুলো নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে তার সাথে কথা বলার আগ্রহ সৃষ্টি না হয়। যদি সে রকম কিছু হয় তাহলে ছবির বিষয়টি আপনি বেমালুম ভুলে যান। আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন। তিনিই মুমিন বান্দাকে হেফাযতকারী।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আপনাকে হেফাযত করেন; আপনাকে তার আনুগত্যের উপর অবিচল রাখেন এবং চক্রান্তকারীর চক্রান্ত থেকে আপনাকে নিরাপদে করেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়