ঢাকা, বুধবার   ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২৬ ১৪২৯

পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১১, ২২ নভেম্বর ২০২২  

পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প

দেশের পিছিয়ে থাকা হাওড় ও চর এলাকায় পুষ্টি ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় ৪৯ জেলার ১৫৫ উপজেলায় উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে বাগান তৈরি করে স্থানীয়দের আয় বাড়ানো হবে।
এ লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়- কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জেরদারকরণ- নামের একটি প্রকল্প তোলা হচ্ছে যা বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও আরও সাতটি প্রকল্প তোলা হবে একনেক সভায়। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা এমপি।

পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রমতে, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৪৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সহযোগী সংস্থা হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (বারটান)। প্রকল্পের উদ্দেশে বলা হয়েছে, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে অবদান রাখা। তা ছাড়া ৭টি মিনি নিউট্রিশন ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়েছে, দেশের হাওড়, চর, আদিবাসী অধ্যুষিত এবং পুষ্টি ঘাটতি সম্পন্ন এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এমন ১৫৫টি উপজেলা এলাকায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে বায়ো-ফর্টিফাইড ফসল সম্প্রসারণ করা হবে। তাছাড়া উচ্চমূল্যের ফসল, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত জাত/প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।

নিরাপদ ফসল উৎপাদন, সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানোর জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পুষ্টি বাগান  তৈরির মাধ্যমে জনগণের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যাবে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- বেশ কিছু কৃষি সরঞ্জাম ক্রয় করা। এসবের মধ্যে রয়েছে- ২ হাজার ৯৩৪টি কর্ণসেলার ক্রয় করা। ৮ হাজার ৮০২টি হ্যান্ড স্প্রেয়ার, ২ হাজার ৯৩৪টি ফুট পাম্প ও ১ হাজার ৩৭৭টি এলএলপি। তাছাড়া ২ হাজার ৭৫৪ সেট ফিতা পাইপ ইত্যাদি ক্ষুদ্র ফাপাতি ও সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং ৪৯টি কৃষি প্রযুক্তি ও পুষ্টি মেলার আয়োজন করা হবে।
প্রায় ৫ হাজার কৃষক, কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রা! ১৪ হাজার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। ৯টি আদর্শ রন্ধনশালা (নিউট্রিশন কিচেন) ও ৭টি মিনি নিউট্রিশন ল্যাবরেটরি নির্মাণ করা হবে। ৩৫০টি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেন, ১৫৫টি পুষ্টি গ্রামে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেন/পুষ্টি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক বিভাগের রয়েছে ৩টি প্রকল্প।  তথ্য ও ডাক বিভাগের দুটি এবং স্থানীয় সরকার ও সুরক্ষা বিভাগের একটি করে প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া একনেক অবগতির জন্য কয়েকটি প্রকল্প রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়