ঢাকা, বুধবার   ০৮ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রাহায়ণ ২৩ ১৪২৮

রাজশাহীতে পাটের আবাদ করে ভালো আয় করছেন চাষিরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৩, ১৬ অক্টোবর ২০২১  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল পাট। রফতানি আয়ে প্রধান ভূমিকা রাখায় এ ফসলকে বলা হয় সোনালি আঁশ। দেশে পাটের মোট আবাদের একটি বড় অংশ হয় রাজশাহী অঞ্চলে। করোনা পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলে পাটের আবাদ ও পাটজাত দ্রব্য তৈরি কিছুটা কমলেও সম্প্রতি বেড়েছে দাম ও চাহিদা। এতে সুদিন ফিরছে সোনালী আঁশ খ্যাত এ অর্থকরী ফসলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর অনুকূল আবহাওয়া থাকায় রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছেন বিক্রেতারা। সার ও উন্নত বীজের সহজলভ্যতা এবং পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনদিন পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন রাজশাহী অঞ্চলের চাষিরা।

পাট চাষি ও কৃষিবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারিভাবে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক ঘোষণাসহ পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় কদর বেড়েছে কাঁচা পাটের। দুই বছর ধরে পাটের আবাদ করে ভালো আয় করছেন রাজশাহী অঞ্চলের চাষিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. তৌফিকুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালে ১৩ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। যা গত বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯০০ হেক্টরে। ওই বছর আবাদের পাশাপাশি ফলন ও দাম দুটোই বেশি পেয়েছে কৃষকরা। চলতি বছরে রাজশাহী অঞ্চলে পাটের আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৩৯ হেক্টর জমিতে।

তিনি আরো বলেন, আগে ভারতীয় বীজের কারণে ফলন ভালো হতো না। এখন দেশীয় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ভালো মানের পাট হচ্ছে। এভাবে পাটের ফলন ও দাম অব্যাহত থাকলে অল্প দিনেই সুদিন ফিরবে পাটে।

গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নের পাট চাষী এন্তাজ জানান, এবার ৭ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি ৬ হাজার টাকা করে খরচে ফলন পেয়েছেন ৮-১০ মণ করে। গত বছর পাট চাষ করে লাভ হয়েছিল তার। বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩০০০-৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবার আয় আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদী।

এই বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কে. জে. এম আব্দুল আওয়াল জানান, এ অঞ্চলে দিনদিন পাটের আবাদ বাড়ার প্রধান কারণ কম খরচে বেশি লাভ। আগের মতো শ্রমিক খরচ না লাগায় বিঘাপ্রতি ৬ হাজার টাকা খরচে চাষিরা ৩০ হাজার টাকার পাট উৎপাদন করতে পারছে। এছাড়া পাটকাঠি বিক্রি করেও বাড়তি আয় হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পাটের কদর থাকায় বর্তমান বাজারে দাম বেশি। সব মিলিয়ে আগমীতে পাটের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। শিগগিরই সুদিন ফিরে পাবেন পাট চাষে সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়