ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

রোহিঙ্গা ফেরতে আলোচনায় নতুন মাত্রা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৮, ৩ আগস্ট ২০২৩  

রোহিঙ্গা ফেরতে আলোচনায় নতুন মাত্রা

রোহিঙ্গা ফেরতে আলোচনায় নতুন মাত্রা

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর উদ্যোগ সফল করতে কাজ অব্যাহত রেখেছে চীন। এরই অংশ হিসেবে খানিকটা নীরবেই ঢাকা ঘুরে গেছেন চীনের এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত দেং সিজুন। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার তিন দিনের ঢাকা সফরে এসে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে দেং সিজুন আলোচনা করেন। এতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এত দিনের আলোচনায় নতুন মাত্রা এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, চার মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ঢাকায় চীনের দূতের এটি দ্বিতীয় সফর। গত সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এবং রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন চীনের দূত। আলোচনায় পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ১৭৬ রোহিঙ্গাকে দিয়ে প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। এবার বাংলাদেশে আসার আগে চীনের বিশেষ দূত মিয়ানমার সফর করেছেন। মিয়ানমারও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি-এমন বার্তা বাংলাদেশকে দিয়েছেন চীনের দূত।

সূত্র জানিয়েছে, চীনের বিশেষ দূত বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলেছেন, মিয়ানমার ইঙ্গিত দিয়েছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের কোনো ক্যাম্প বা মডেল ভিলেজে নেওয়া হবে না। রোহিঙ্গাদের একটি দল সম্প্রতি রাখাইন সফর করে ফিরে এসে ক্যাম্পে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতেই মিয়ানমারের ইঙ্গিতকে নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে চীনের বিশেষ দূত আরও জানিয়েছেন, মিয়ানমার প্রথম তিন মাসের জন্য প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের ব্যয় বহন করবে। পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের পর জীবিকার জন্য রোহিঙ্গাদের মাছ ধরা ও কৃষিকাজের সুযোগ দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার চীনা বিশেষ দূতকে জানিয়েছে, বর্ষাকালে প্রত্যাবাসন শুরু করা কঠিন, তবে এর মধ্যেই প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি শেষ করা হবে। প্রত্যাবাসন শুরুর কোনো দিনক্ষণ ঠিক করা না হলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক ধাপে প্রায় ৭ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, চীন দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে সফলতা দেখাতে চায়। ইরান ও সৌদি আরবকে মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের কূটনৈতিক সফলতা এ অঞ্চলেও দেখাতে চায়। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার ওপর পশ্চিমা যে চাপ বাড়ছে, তাতে এখানকার বন্ধুরাষ্ট্রগুলো কূটনীতিতে চীনের সফলতা দেখতে চায়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সেই সফলতা এনে দিতে পারে চীনকে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়