ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ১১ ১৪২৮

‘পাক সেনা ক্যাম্পের নারী সাপ্লায়ার’ ছিলেন সাঈদী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৮, ৯ জানুয়ারি ২০২১  

দেলোয়ার হোসেন সাঈদী

দেলোয়ার হোসেন সাঈদী

দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। কুখ্যাত রাজাকার, স্বাধীনতাবিরোধী, ধর্ষক ও সংখ্যালঘুদের সম্পদলুটকারী। মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘পাক সেনা ক্যাম্পের নারী সাপ্লায়ার’ হিসেবেও তার কুখ্যাতি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় হয়ে ওঠেন কথিত ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা। ২০০১ সালে বেগম জিয়ার বিএনপির সাথে জোট করে সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় পা রেখে দেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ত্যাগের ইতিহাসকে ভূলুণ্ঠিত করে সাঈদী রাজাকার। সাঈদীর অপরাধের জন্য জামায়াতের পাশাপাশি বিএনপিও সমানতালে দায়ী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তথ্যসূত্র বলছে, মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে পিরোজপুরের পাড়ের হাট বন্দরের বাজারে ফুটপাতে বসে তাবিজ বিক্রি করতেন সাঈদী। মুক্তিযুদ্ধকালে হিন্দুদের সম্পত্তি লুট করে সম্পদের পাহাড় গড়েন। উর্দু ভাষায় পারদর্শিতার কারণে দ্রুত পাক বাহিনীর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে সাঈদীর। রাজাকার সাঈদী পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে নারী ও খাবার সাপ্লাই দিতেন বলেও জনশ্রুত আছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জোরপূর্বক সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল, বলপূর্বক ধর্মান্তর, নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন সাঈদী। সার্টিফিকেট জাল করে নিজেকে ভুয়া মাওলানা বলেও প্রচার করতেন সাঈদী। দেশ স্বাধীনের পর ভোল পাল্টিয়ে খুলনা ও অন্যান্য জেলায় সাঈদীর লুকিয়ে ছিলেন বলেও জানা গেছে।

জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ শেষের দিকে একদিন ১০/১২ জন রাজাকারের বাহিনী নিয়ে পাড়েরহাট বাজারের গৌরাঙ্গ সাহার বাড়িতে যান রাজাকার সাঈদী। সেখানে গৌরাঙ্গ সাহার ৩ বোন মহামায়া, অন্ন রানী ও কমলা রানীকে আটক করে তারা পিরোজপুরে পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে নিয়ে যান। সে ক্যাম্পে তিন বোনকে ৩ দিন আটকে রেখে পাকিস্তানি সেনাসহ সাঈদী ধর্ষণ করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সাঈদী ও তার সহযোগীরা মুক্তিযোদ্ধা/হিন্দু বাঙালিদের বাড়িঘরে গিয়ে তাদের টাকা পয়সা ‘গনিমতের মাল’ আখ্যা দিয়ে লুট করতো এবং আসার সময় তৈজসপত্র, পিতল ও কাঁসার থালাবাসন, গবাদী পশু/ হাস মুরগীও নিয়ে এসে লঞ্চঘাটের সেই দোকানে মজুদ করতো।

এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সাঈদী মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতের লেবাস ধারণ করে নিজেকে মাওলানা পরিচয় দিয়ে নিজের পিঠ বাঁচায়। পরবর্তীতে ক্ষমতার লোভে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাত মিলিয়ে মহান সংসদেও নিজের নোংরা পা দেয় রাজাকার সাঈদী। ক্ষমতায় যেতে বিএনপি রাজাকার, আল-বদর, স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে হাত মেলাতে শঙ্কাওবোধ করেনি। সেই সাঈদী আজ নিজ অপকর্মের কারণে জেল খাটছেন। তার তো মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। তার মুক্তির বিষয়ে কথা বলার অর্থ দেশের বিপক্ষে-স্বাধীনতার বিপক্ষে কথা বলা।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়