ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মুক্ত রয়েছে বরিশাল নগরবাসী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৭, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বৈশ্বিক মহামারি করোনা রোগের পাশাপাশি সম্পতিকালে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী নিয়ে বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলা শহরগুলোতে আতংক ছড়িয়ে পড়ার পরও এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু মুক্ত রয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ কলোনি ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকাবাসী।

এডিস মশার বংশ বিস্তার প্রতিরাধে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বর্ষা মৌসুমের আগে এপ্রিল-মে মাসে ৩০টি ওয়ার্ডের খাল-ড্রেন-ডোবা-নালা পরিষ্কার করা, মশা ক্রাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং লার্ভা নিধনে হ্যান্ড স্প্রে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়নি বলে মত প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, রোববার পর্যন্ত ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে ১ জন রোগী বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসিন্দা। অন্য সবাই পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার বসবাসরত বাসিন্দা এবং ঢাকা থেকে আগত। 

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচার প্রচারণা ও ঘনবসতিপূর্ণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখার বিষয়ে মেয়রের সু-দৃষ্টি থাকায় এ বছর এখন পর্যন্ত সিটি এলাকায় বসবাসরত কেউ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়নি। যার কারণে বরিশালের হাসপাতালগুলো ও চিকিৎসকরা অনেকটা চাপ মুক্ত রয়েছেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, সিটি এলাকায় ৩০টি ওয়ার্ডে বসবাসরত ৬ লক্ষাধিক নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবার দিক বিবেচনায় রেখে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ডেঙ্গু মশা নিধনে হাতে নিয়েছেন নানামুখী পরিকল্পনা ও উদ্যোগ।

একদিকে জন-সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান ও বর্ষা মৌসুমের আগেই মাস ব্যাপী সিটি এলাকার বাড়ির আঙ্গিনা, খাল-ড্রেন-ডোবা নালা পরিষ্কার-পরিছন্নতা অভিযান। অন্যদিকে চালানো হয় মশা ক্রাশ প্রোগ্রাম। এর আওতায় বাড়ির আঙ্গিনাসহ ড্রেন নালা ডোবায় ফগ মেশিন এবং হ্যান্ড স্প্রে দিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা হয়।

নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবির হোসেন বলেন, ২ বছর আগে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখন সুস্থ হতে অনেক সময় লেগেছিল। যা আমার স্বাভাবিক জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে। এখন আর নগর এলাকায় ডেঙ্গু রোগী দেখছি না। এটা আমাদের জন্য ভালো খবর। কারণ এ রোগ যার হয়েছে সেই একমাত্র এই রোগের কষ্টটা অনুভব করে।

সিটি কর্পোরেশনের সহকারী পরিষ্কার-পরিছন্নতা কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, এডিস মশা প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দুটি টিম গঠন করা হয়েছে।

সেন্ট্রাল টিম নামে একটি দল নব নির্মিত ভবনে কোনো এডিস লার্ভা জন্মাচ্ছে কিনা তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। অন্যদিকে ড্রেন ডোবা নালা ও বাড়ির আঙ্গিনায় প্রতিদিন ফগ মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে করে যাচ্ছেন। আর যেখানে এডিস লার্ভার সন্ধান পাওয়া যায় সেখানে ভিন্ন একটি কেমিক্যাল হ্যান্ড স্প্রে করা হয়। মেয়রের নির্দেশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দাস বলেন, এডিস মশা দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। ঝুঁকি সময়কালীন পর্যন্ত আমাদের এ কার্যক্রম চলবে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ জানান, করোনার মধ্যে নগরবাসীর স্বাস্থ্য বিবেচনায় এডিস মশা নিধন কার্যক্রম আমার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিলো। তাই আগে থেকেই ড্রেন-খাল-আঙ্গিনা পরিষ্কার কার্যক্রম হাতে নিয়ে ছিলাম। তাই আল্লাহর রহমতে সবাইকে ডেঙ্গু মুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। আর এর সুফল এখন নগরবাসী ভোগ করছে। 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়